১৮ জানুয়ারি ২০২১, সোমবার
Choose Language:

সর্বশেষ
ট্রাইবুনাল
রাজনৈতিক কারণেই গোলাম আযমের বিরুদ্ধে অভিযোগ: ব্যারিস্টার রাজ্জাক
৯ এপ্রিল ২০১২, সোমবার,
Tuesday, 27th March, 2012
গোলাম আযমের বিরুদ্ধে অভিযোগের যুক্তি তর্ক উপস্থাপনের সময় ডিফেন্সের প্রধান ও তার আইনজীবী ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক বলেন, “অধ্যাপক গোলাম আযমের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক কারণেই ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ আনা হয়েছে। গোলাম আযমের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ গঠনের প্রক্রিয়া চলছে তা সম্পূর্ণ রাজনৈতিক কারণে করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, আমি টাইব্যুনালে কয়েকটি যুক্তি উপস্থাপন করেছি। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রাজনৈতিক, মুক্তিযুদ্ধের সময় অধ্যাপক গোলাম আযম ও তার দল জামায়াতে ইসলামী কোনো ফোর্স গঠন করেনি, ওই সময় সরকারই ফোর্স বা রাজাকার বাহিনী গঠন করেছে।
রাজ্জাক বলেন, ১৯৭৩ সালে কলোবারেটর এক্ট তৈরি করা হয়েছিল শুধু ১৯৫ জন বিদেশী নাগরিকের বিচারের জন্য। সেই বিদেশী নাগরিকের জন্য করা আইন বাংলাদেশী নাগরিকের ওপর প্রয়োগ করা হয়েছে। ওই সময় এ বিষয়টি নিয়ে সংসদেও আলোচনা হয়েছে এবং পরে তা শুধু আর্মড ফোর্সের ওপর প্রয়োগ করার কথা ছিল। কিন্তু তারা তা না করে এ আইনের প্রয়োগ করছেন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে।
তিনি বলেন, ট্রাইব্যুনালে আটক আছেন যারা তারা বেশিরভাগই জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক নেতৃত্বে আছেন। রাজনৈতিক কার্যক্রম বন্ধ করতেই এই আইনে তাদের বিচার করার জন্য আটক করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, ৪০ বছর আগের অপরাধের জন্য এতো দিন পরে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনলেন যা পৃথিবীর কোথাও নেই।
তিনি প্রথম বিশ্বযুদ্ধের বিচার, রোয়ান্ডার যুদ্ধাপরাধের কার্যক্রম ও পৃথিবীর বিভিন্ন আদালতের উদাহরণ দিয়ে বলেন, ওইসব আদালতে বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে যুদ্ধাপরাধ সংঘটিত হওয়ার সঙ্গে-সঙ্গেই। এতোদিন পরে বাংলাদেশেই একমাত্র ব্যতিক্রম যে, ৪০ বছর পরে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার শুরু হলো শুধু রাজনৈতিক কারণে।
 ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক বলেন, ১৯৯১ সালে বিএনপি চেয়েছিল তাদের সঙ্গে এবং আওয়ামী লীগও চেয়েছিল জামায়াতের সঙ্গে সরকার গঠন করবে। কিন্তু জামায়াত ইসলামী তা না করে বিএনপির সঙ্গে জোট গঠন করে সরকার গঠন করায় আজ জামায়াতের এসব নেতার বিরুদ্ধে যুদ্ধপারাধের অভিযোগ আনা হয়েছে। তিনি বলেন, গোলাম আযমের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা  হয়েছে তার একটিও যুদ্ধাপরাধের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হতে পারে না। কারণ তিনি তখন কোনো অপরাধ করেননি।
তিনি আরো বলেন, মুক্তিযুদ্ধকালীন সরকার এক অর্ডিন্যান্স’র  মাধ্যমে রাজাকার বাহিনী গঠন করেছিল। রাজাকার বাহিনী গঠন করা এটা জামায়াত বা গোলাম আযমের কাজ নয়, এটা সম্পূর্ণ মুক্তিযুদ্ধকালীন  সরকারের কাজ। এ অভিযোগের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে কোনো ধরনের মানবতাবিরোধী অপরাধ আমলে নিতে পারেন না ট্রাইব্যুনাল।
ব্যারিস্টার রাজ্জাক বলেন, এক তো তিনি কোনো অপরাধ করেননি, তার ওপর এটাও ঠিক যে ১৯৭৩ সালের আইনটা করা হয়েছিল পাকিস্তানের ১৯৫ জন আর্মস ফোর্স’র যুদ্ধাপরাধের বিচার করার জন্য। সেই আইনে এখন জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের বিচার করা হচ্ছে। যার বিরোধিতা করছি আমরা।
মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আটক জামায়াতের সাবেক আমির অধ্যাপক গোলাম আযমের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনে তার আইনজীবীর যুক্তিতর্ক উপস্থানের সময় তিনি এসব যুক্তি ট্রাইব্যুনালের সামনে উপস্থাপন  করেন।
এর আগে গত রোববার ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান নিজামুল হকের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ গঠনের বিষয়ে ডিফেন্স পক্ষের যুক্তি-তর্ক উপস্থাপন শুনানি শুরু হয়।
গত ১৯ মার্চ সোমবার ডিফেন্স পক্ষ তাদের বক্তব্য দেয়ার কথা থাকলেও ট্রাইব্যুনালের এক সদস্য বিচারপতি একেএম জহির আহমেদ অনুপস্থিত থাকায় শুনানি পিছিয়ে ২৫ মার্চ ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল। রোববার গোলাম আযমের আইনজীবী যুক্তিতর্ক উপস্থপন শেষ না হওয়ায় পরবর্তী শুনানির জন্য মঙ্গলবার ধার্য করে দেন ট্রাইব্যুনাল।
 
একই সঙ্গে ২৫ মার্চ গোলাম আযমকে বাড়ি থেকে রান্না করা খাবার সরবরাহের আবেদনটি মোডিফিকেশন করার বিষয়ে শুনানি হওয়ার কথা ছিল। তাই রোববার ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম এর শুরুতেই গোলাম আযমের খাবারের মোডিফিকেশন আবেদনের ওপর শুনানি করেন তার আইনজীবী ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক।
মঙ্গলবার সকালে অধ্যাপক গোলাম আযমকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যায়ের প্রিজনসেল থেকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপিত ডিফেন্স পক্ষের প্রধান ও গোলাম আযমের আইনজীবী ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাকের যুক্তি-তর্ক আগামী ২৯ মার্চ রাষ্ট্রপক্ষ খণ্ডাবেন।