১৮ জানুয়ারি ২০২১, সোমবার
Choose Language:

সর্বশেষ
ট্রাইবুনাল
অধ্যাপক গোলাম আযমের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি শেষ ১৭ এপ্রিল আদেশ
৯ এপ্রিল ২০১২, সোমবার,
Thursday, 29th March, 2012
জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমীর ভাষা সৈনিক অধ্যাপক গোলাম আযমের বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালের কথিত মানবতাবিরোধী অভিযোগ গঠনের শুনানি আজ বৃহস্পতিবার শেষ হয়েছে। আগামী ১৭ এপ্রিল এ বিষয়ে আদেশ দেয়ার জন্য দিন ধার্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
ইতঃপূর্বে অধ্যাপক গোলাম আযমের আইনজীবী ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেয়ার আবেদনের পক্ষে যেসব যুক্তি পেশ করেন তার জবাব দেন গতকাল প্রসিকিউশন। সকাল-বিকাল ২ বেলায় এ সংক্রান্ত শুনানি অব্যাহত থাকে। প্রসিকিউশনের কয়েকটি পয়েন্টে প্রদত্ত বক্তব্যের ব্যাখ্যা দেন অধ্যাপক আযমের পক্ষের আইনজীবী এডভোকেট শিশির মনির।
প্রসিকিউশনের বক্তব্যে বলা হয়, ১৯৫ জন পাকিস্তানী যুদ্ধাপরাধীর বিচার ছাড়া অন্যদের বিচার করা যাবে না এমন কথা আইনের কোথায়ও উল্লেখ নেই। ৪০ বছর বিলম্বের যে অভিযোগ করা হয়েছে তাও সঠিক নয়। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর বিচারের উদ্যোগ নেয়া হয়নি। ১৯৯২ সালে তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেত্রী (বর্তমান প্রধানমন্ত্রী) শেখ হাসিনা জাতীয় সংসদে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য ট্রাইব্যুনাল গঠন করে তথ্যভিত্তিক বক্তব্য রাখেন। প্রসিকিউটর এ সংক্রান্ত সংসদের প্রসিডিংস পড়ে শুনান।
প্রসিকিউশনের বক্তব্যের পরে বিচারকরা কিছু প্রশ্ন করেন। ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান প্রসিকিউটরকে বলেন, ৪ এপ্রিল টিক্কা খানের সাথে কতিপয় ব্যক্তি বৈঠক করেছেন? তারা সবাই সুপরিচিত ব্যক্তি। ২৫ মার্চ রাতে অপারেশন সার্চ লাইটের পর থেকে গোটা ঢাকা শহরে কার্ফু জারি ছিল। ঢাকায় মানুষ ছিল অবরুদ্ধ। কেউ ঘর থেকে বের হতে পারতো না। এর মধ্যে ঐসব ব্যক্তিকে সামরিক বাহিনী প্রধান বঙ্গভবনে ডেকে নিয়ে মিটিং করেছেন। এ থেকে কি বোঝা যায় না যে সামরিক বাহিনীর সাথে তাদের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ আগে থেকেই ছিল। আর ২৫ মার্চের ঘটনাও তারা পূর্ব থেকে জানতেন। এই প্রসঙ্গে আপনারা প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে কিছুই বলেননি। এ বক্তব্য থাকা দরকার ছিল।
চেয়ারম্যান আরো প্রশ্ন করেন রাজাকার বাহিনী অঙ্লিারী ফোর্স ছিল না মর্মে ডিফেন্স বারবারই বক্তব্য রেখে আসছে। আপনাদের কাছে কি এমন কোন ডকুমেন্ট আছে। প্রসিকিউটর এ সময় তৎকালীন একটি গেজেটের ফটোকপি দেখান।
জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রসংঘ যে রাজাকার আল বদর ছিল তার কি প্রমাণ আছে। বিচারক জহির আহমেদের এমন প্রশ্নের জবাবে প্রসিকিউটর বলেন, গোলাম আযম, নিজামী, মুজাহিদ তাদের সুপিরিয়র স্ট্যাটাস ব্যবহার করে তাদের কর্মী বাহিনীকে ঐ সব বাহিনীর হয়ে কাজ করার নির্দেশ দেন।
চার্জ গঠন করার মতো পর্যাপ্ত তথ্য প্রমাণ আছে কি না চেয়ারম্যানের এমন প্রশ্নের জবাবে প্রসিকিউটর বলেন, গোলাম আযম সামরিক বাহিনীর সাথে বসে ষড়যন্ত্র করেছেন, শলা পরামর্শ করেছেন, হত্যা, গণহত্যাসহ মানবতা বিরোধী অপরাধ সংঘটনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন। এছাড়াও তার নিজ জেলা ছিরু মিয়া দারোগার হত্যার নির্দেশদাতা তিনি। এসব অভিযোগের পক্ষে যথেষ্ট সাক্ষ্য প্রমাণ রয়েছে। এর ভিত্তিতে চার্জগঠন করা যায়।
বিচারক জহির বলেন, ছিরু মিয়া হত্যাকাণ্ডের সাথে গোলাম আযমের জড়িত থাকার পক্ষে আপনারা কোন সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনতে পারেননি। ৫টি অভিযোগ এনেছেন। এগুলো সবই ষড়যন্ত্র। পরিকল্পনা ইত্যাদি। শুধু ছিরু মিয়ার হত্যাকে সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন। তবে তাও স্পষ্ট নয়।
প্রসিকিউটর পরে প্রেসব্রিফিং-এ বলেন, গ্রেফতারের আগে সাক্ষাৎকার দিয়ে গোলাম আযম নিজেই বলেছেন, রাজাকার, আল-বদর, আল-শামস বাহিনী গঠন করা হয়েছিল জনগণকে রক্ষার জন্য। এর মাধ্যমে তিনি নিজেই প্রমাণ দিয়েছেন যে এসব বাহিনী গঠনের সাথে তিনি জড়িত ছিলেন।