১৮ জানুয়ারি ২০২১, সোমবার
Choose Language:

সর্বশেষ
ট্রাইবুনাল
কামারুজ্জামানের মৃত্যুদণ্ড স্থগিত করতে আন্তর্জাতিক সংস্থা ও ব্যক্তির আহ্বান
১১ মে ২০১৫, সোমবার,
৮ এপ্রিল ২০১৫, বুধবার,
|| কামারুজ্জামান হবে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় হত্যার দ্বিতীয় দৃষ্টান্ত : সিএলএ
|| কামারুজ্জামানের মৃত্যুদণ্ড স্থগিতের আহ্বান হিউম্যান রাইটস ওয়াচের
|| কামারুজ্জামানের বিচারিক প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ছিল না : লর্ড কারলাইল
আন্তর্জাতিক সংস্থা ও ব্যক্তি জামায়াতে ইসলামীর সিনিয়র সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের মৃত্যুদণ্ড স্থগিতের আহ্বান জানিয়েছে। তারা অবিলম্বে কামারুজ্জামানের মৃত্যুদণ্ডের রায় স্থগিত করা এবং মামলাটি স্বাধীনভাবে পুনর্বিবেচনা না করা পর্যন্ত তা মুলতবি রাখাসহ সুনির্দিষ্ট সুপারিশ করেছে।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচ : আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) ‘ত্রুটিপূর্ণ বিচার প্রক্রিয়ায়’ যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত জামায়াতে ইসলামীর সিনিয়র সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের মৃত্যুদণ্ড স্থগিতের আহ্বান জানিয়েছে। এইচআরডব্লিউ’র এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অবিলম্বে কামারুজ্জামানের মৃত্যুদণ্ডের রায় স্থগিত করা এবং মামলাটি স্বাধীনভাবে পুনর্বিবেচনা না করা পর্যন্ত তা কর্তৃপক্ষের মুলতবি রাখা উচিত।
এতে বলা হয়, ২০১৫ সালের ৬ এপ্রিল বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের মৃত্যুদণ্ডের রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন খারিজ করে দেয়, যার অর্থ তিনি আসন্ন মৃত্যুদণ্ডের সম্মুখীন।
এইচআরডব্লিউ’র এশিয়া বিষয়ক পরিচালক ব্র্যাড অ্যাডামস বলেন, মৃত্যুদণ্ড একটি অপরিবর্তনযোগ্য ও নিষ্ঠুর শাস্তি। বিচার বিভাগ যখন এ ধরনের শাস্তি যথাযথ ও পূর্ণাঙ্গরূপে পুনর্বিবেচনা করতে ব্যর্থ হন, তখন সেটি আরও গর্হিত পর্যায়ে উপনীত হয়। তিনি আরও বলেছেন, বাংলাদেশের যুদ্ধাপরাধ বিচার কাজ নিরপেক্ষ বিচার প্রক্রিয়া লঙ্ঘনের পুনঃপুনঃ ও বিশ্বাসযোগ্য অভিযোগের মহামারীতে বিপর্যস্ত, যেখানে পক্ষপাতহীন বিচার বিভাগীয় পর্যালোচনা আবশ্যক।
গত সোমবার হিউম্যান রাইটস ওয়াচের নিজস্ব ওয়েবসাইটে ‘বাংলাদেশ: সাসপেন্ড ডেথ সেনটেন্স অব ওয়ার ক্রাইমস অ্যাকিউজড’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদনে এ আহ্বান জানানো হয়।
ব্র্যাড অ্যাডামস বলেন, ১৯৭১ সালে ভয়াবহ যেসব যুদ্ধাপরাধ সংঘটিত হয়েছিল, তার ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিতার ব্যাপারে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ দীর্ঘকাল থেকে সমর্থন জানিয়ে আসছে। কিন্তু, এ বিচারসমূহ আন্তর্জাতিক নিরপেক্ষ বিচার ব্যবস্থার মানদণ্ডে হওয়া উচিত।
তিনি বলেন, ন্যায়বিচার প্রদানের জন্য সর্বোচ্চ মানদণ্ডের নীতিতে অবিচল থাকা আবশ্যক, বিশেষ করে জীবন যখন বিপন্নপ্রায়। তিনি বলেন, কামারুজ্জামানের বিচার প্রক্রিয়া যেভাবে পরিচালিত হয়েছে, তাতে সে মানদণ্ডসমূহ অনুসরণ করা হয়েছে, তেমনটা বলা যায় না।
একই সঙ্গে বাংলাদেশে অবিলম্বে মৃত্যুদণ্ড স্থগিত করার দীর্ঘদিনের আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক বিশেষজ্ঞ ও জাতিসংঘের বিভিন্ন সংগঠনের মতে, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের সঙ্গে মৃত্যুদণ্ড সঙ্গতিপূর্ণ নয়। ব্র্যাড অ্যাডামস আরও বলেন, বাংলাদেশে সরকারের উচিত আইন কার্যকরের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড স্থগিত করা এবং যে রাষ্ট্রগুলো ইতোমধ্যেই এ ধরনের বর্বরোচিত রেওয়াজের বিলোপ ঘটিয়েছে, অচিরেই তাদের সঙ্গে যোগ দেয়া।
প্রতিবেদনে বলা হয়, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) নির্দেশে ২০১০ সালের জুলাইয়ে কামারুজ্জামানকে গ্রেফতার করা হয়। ১৯৭১ সালে সংঘটিত যুদ্ধাপরাধের বিচারের লক্ষ্যে গঠন করা হয় আইসিটি। ওই যুদ্ধের পর পাকিস্তান থেকে মুক্ত হয় বাংলাদেশ। কিন্তু, জামায়াতে ইসলামীর এ নেতাকে কেন গ্রেফতার করা হলো, সে সম্পর্কে তাকে কোন কারণ জানানো হয়নি। জাতিসংঘের ‘ওয়ার্কিং গ্রুপ অন আরবিট্রারি ডিটেনশন’ তার গ্রেফতারকে বিধিবহির্ভূত ও আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে চিহ্নিত করে। বিচার চলাকালীন সময়ে বিধিবহির্ভূতভাবে আসামী পক্ষের সাক্ষ্য-প্রমাণ উপস্থাপনের সুযোগকে সীমিত করে দেয়া হয়। প্রত্যক্ষদর্শী ও নথিপত্র উপস্থাপনেও এ সীমাবদ্ধতা কার্যকর ছিল। এভাবে কামারুজ্জামানের বিচার প্রক্রিয়ার আরও কয়েকটি অনিয়মের কথা তুলে ধরা হয় এইচআরডব্লিউ’র প্রতিবেদনে।
লর্ড কারলাইল: যুক্তরাজ্যের হাউস অব লর্ড এর সদস্য লর্ড কারলাইল মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের ফাঁসির দ- স্থগিত করাসহ সরকারের প্রতি ৫ দফা সুপারিশ করেছেন। তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া নিয়ে স্বাধীন তদন্ত করা, তা সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত মামলার বিচারিক প্রক্রিয়ায় সকল কার্যক্রম স্থগিত রাখা, সর্বোচ্চ দ- হিসেবে মৃত্যুদণ্ডের বিধান স্থগিত রাখাসহ আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের সুপারিশ অনুযায়ী সত্যিকার অর্থেই একটি আন্তর্জাতিক মানের ট্রাইব্যুনাল প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
গতকাল দেয়া বিবৃতিতে তিনি বলেন, কামারুজ্জামানের বিচারিক প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছ বিচারিক প্রক্রিয়া ছিল না। আশা করা হয়েছিল রিভিউ গ্রহণ করে ত্রুটিগুলো দূর করা হবে এবং পুনঃবিচারের আদেশ দেয়া হবে।
তিনি বলেন, বিচারিক কার্যক্রম নিয়ে হিউম্যান রাইট্স ওয়াচ, নো পিস উইদাউট বর্ডার, জাতিসংঘের ওয়ার্কিং গ্রুপ অন অরবিট্রারী ডিটেনশন, যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক বিচার বিষয়ক বিশেষ দূত স্টিফেন জে র্যাপসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা সমালোচনা করেছে। এই বিশেষজ্ঞদের কোন রাজনৈতিক এজেন্ডা নেই। তারা আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী ন্যায় বিচার নিশ্চিত করতে চায়। 
কমনওয়েলথ ল’য়ার এসোসিয়েশন : মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের ফাঁসির দণ্ড নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে কমনওয়েলথ ল’ইয়ার্স এসোসিয়েশন-সিএলএ। এ সংস্থা সরকারের প্রতি ৪ দফা সুপারিশ করেছে। সুপারিশগুলো হলো, ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক দেয়া সকল সাজা ও বিচার কার্যক্রম অবিলম্বে স্থগিত করা, অনতিবিলম্বে ট্রাইব্যুনালের বিচার প্রক্রিয়া রিভিউ এবং তদন্ত করা, সর্বোচ্চ সাজা হিসেবে মৃত্যুদণ্ডের বিধান স্থগিত রাখা, আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের সুপারিশ অনুযায়ী সত্যিকার অর্থেই একটি আন্তর্জাতিক মানের ট্রাইব্যুনাল প্রতিষ্ঠা করতে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।
সিএলএ বলেছে, রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় আইসিটির মামলা সংক্রান্ত সম্ভাব্য হত্যাকাণ্ডে কামারুজ্জামান হবেন দ্বিতীয় দৃষ্টান্ত। এর প্রথম হত্যাকাণ্ড হয়েছে আব্দুল কাদের মোল্লার ক্ষেত্রে।
গতকাল দেয়া বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-আইসিটি এর কার্যক্রম দেশীয় আইন যেমন নয়, তেমনি আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ীও হচ্ছে না, যে সব আন্তর্জাতিক চুক্তি ও বিধিতে বাংলাদেশ স্বাক্ষর করেছে। পুরো বিচার প্রক্রিয়াতেই তা রক্ষা করা সম্ভব হয়নি।
http://www.dailysangram.com/news_details.php?news_id=183156