১৮ জানুয়ারি ২০২১, সোমবার
Choose Language:

সর্বশেষ
ট্রাইবুনাল
মানসিকভাবে দৃঢ় আছেন কামারুজ্জামান রিভিউ দাখিল হবে আজ
৫ মার্চ ২০১৫, বৃহস্পতিবার,
গতকাল বুধবার বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের আইনজীবী এডভোকেট তাজুল ইসলাম জেলগেটে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন -সংগ্রাম
জামায়াতে ইসলামীর সিনিয়র সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ কামারুজ্জামান সুস্থ আছেন, মানসিকভাবে অসম্ভব দৃঢ় আছেন। আপিল বিভাগের রায়ের বিরুদ্ধে আজ বৃহস্পতিবার তার পক্ষে রিভিউ আবেদন দাখিল করা হবে। রিভিউ করা হলে যুক্তি ও সাক্ষ্য প্রমাণ বিবেচনায় নেয়া হলে তিনি খালাস পাবেন বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা। কারণ ঘটনার সঙ্গে তিনি সম্পৃক্ত ছিলেন না। যে সুরেন সাহার বাড়ি নিয়ে এত কাহিনী হলো, অথচ সে বাড়ি তিনি চেনেন না। যে ক্যাম্পগুলোর কথা বলা হয়েছে তা কখনও দেখেননি। 

গতকাল বুধবার সকাল ১১টা ৪৫ মিনেটে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে তার আইনজীবী এডভোকেট তাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের এসব কথা জানান। কামারুজ্জমানের সঙ্গে কারাগারে সাক্ষাৎ করেন ব্যারিস্টার এহসান এ সিদ্দিক, এডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির, এডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ ও ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন। এর আগে সকাল ১০টা ২০ মিনিটে  ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সামনে যান তার পাঁচ আইনজীবী। সকাল ১০টা ৫৫ মিনিটে  তারা কারা অভ্যন্তরে প্রবেশ করেন। ১১টা ১০ মিনিটে কামারুজ্জামানের সঙ্গে তাদের সাক্ষাৎ হয়। কারাগার থেকে বেরিয়ে আসেন ১১টা ৪০মিনিটে।

এডভোকেট তাজুল ইসলাম বলেন, কামারুজ্জামানের রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউয়ের (পুনর্বিবেচনা) সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। তিনি মনে করেন ন্যায়বিচার পাননি। রিভিউ করা হলে আদালতে শুনানির পর তিনি খালাস পাবেন বলে মনে করেন। আমরা এ ব্যাপারে প্রস্তুতি শেষ করেছি। আগামীকাল (আজ বৃহস্পতিবার) সকালের মধ্যেই সুপ্রিম কোর্টে রিভিউ দাখিল করব। এ ব্যাপারেই কামারুজ্জামান সাহেব আমাদের সাক্ষাৎ চেয়েছিলেন। তার সঙ্গে জাজমেন্টের (রায়ের) নানা ত্রুটি বিচ্যুতি ও আইনগত নানা দিক নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং তিনি আমাদের দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।

তিনি বলেন, সরকার ও এটর্নি জেনারেলের অফিসের প্রতি আহ্বান থাকবে ন্যায় বিচার প্রাপ্তির জন্য শুনানিতে যতটা সময়ের প্রয়োজন এবং সুপ্রিম কোর্টের নিয়ম অনুযায়ী অন্যান্য মামলাগুলোর শুনানি স্বাভাবিক যে গতিতে হয়, সেইভাবে যেন উনাকে (কামারুজ্জামান) সে সময় দেয়া হয়। ডিফেন্সকে (আসামীপক্ষ) যেন অন্যান্য মামলার মতই সময় ও সুযোগ দেয়া হয়, আমাদের পক্ষ থেকে সরকার ও এটর্নি জেনারেলের অফিসের প্রতি এই অনুরোধ থাকল।

তাজুল ইসলাম বলেন, শারীরিকভাবে তিনি অনেকটা সুস্থই আছেন। তবে মানসিকভাবে তিনি অসম্ভব দৃঢ়। পূর্ণাঙ্গ রায়ের কপিটা আমরা তাকে দিয়েছিলাম। তিনি তা সম্পূর্ণ পড়েছেন। রায়ের প্রত্যেকটি লাইন-ওয়ার্ড বিশ্লেষণ করেছেন। তিনি বলেছেন, আমি অবাক হয়েছি আমার বিরুদ্ধে তথ্যপ্রমাণ বিচারকগণ বিশ্লেষণ করেছেন, বিবেচনা করেছেন, সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। কিন্তু ডিফেন্স টিমের (আসামীপক্ষ) সদস্যরা যেসব যুক্তিতর্ক, তথ্যপ্রমাণ আদালতে উপস্থাপন করেছেন, সেগুলো আলোচনা করেননি। বিচারপতিরা যদি এসব বিবেচনায় নিতেন তাহলে এ মামলার রায় অন্যরকম হতো। আদালত রিভিউয়ে ডিফেন্স টিমের উত্থাপিত যুক্তিতর্ক ও তথ্য-প্রমাণ বিবেচনায় নেবেন এবং খালাস পাবেন বলে আশাবাদ জানিয়েছেন কামারুজ্জামান।

তাজুল ইসলাম বলেন, কামারুজ্জামান বলেছেন, শতভাগ মিথ্যার উপর দাঁড়িয়ে মামলাটি করা হয়েছে। সুরেন সাহার বাড়ি নিয়ে এত কাহিনী হলো, অথচ আজ পর্যন্ত সে বাড়ি চিনি না। যে ক্যাম্পগুলোর কথা বলা হয়েছে তা কখনো দেখিওনি। রাস্তা থেকে লোক ধরে নিয়ে এসে কীভাবে একটা মামলা সাজানো হলো, এটা অবাক হওয়ার বিষয়। আমি দৃঢ়ভাবে আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস করি। আমি মনে করি আমার প্রতি অবিচার করা হয়েছে, উল্লেখিত বিষয়গুলো যদি আদালত বিবেচনায় নেন অবশ্যই আমি খালাস পাব।
http://www.dailysangram.com/news_details.php?news_id=178507