Sunday, 26th May, 2013
Choose Language:

সর্বশেষ
মিডিয়া
তিন মাস গুম রেখে যুবককে নির্যাতনের অভিযোগ
Monday, 10 September 2012
দীর্ঘ তিন মাস চারদিন গুম রেখে মাহফুজুর রহমান নামের এক যুবককে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে মাহফুজুর রহমানের ভাতিজা নূর মোহাম্মদ নয়নকেও সাত দিন আটকে রেখে নির্যাতন করে তারা। মানবাধিকার সংগঠন \\\'অধিকার\\\'-এর একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। তবে এ অভিযোগ সম্পর্কে \\\'অধিকার\\\'কে কোন বক্তব্য দিতে রাজি হয়নি গোয়েন্দা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। \\\'অধিকার\\\' এ নির্যাতনের ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত এবং অভিযুক্তদের বিচারের আওতায় নেয়ার দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকেও এ ব্যাপারে ভূমিকা রাখতে অনুরোধ জানিয়েছে সংস্থাটি।
\\\'অধিকার\\\' জানায়, ১৮ ফেব্রুয়ারি দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে গাইবান্ধা জেলার সদর থানার শ্যামপুর গ্রামের আবু বকর সিদ্দিক ও মতিফুল বেগমের ছেলে মাহফুজুর রহমানকে (৩২) ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সদস্যরা ধরে নিয়ে যায়। তাকে খুঁজতে গেলে তার ভাতিজা নূর মোহাম্মদ নয়নকেও ডিবি কার্যালয়ে সাত দিন আটকে রেখে নির্যাতন চালানো হয় বলে স্বজনরা অভিযোগ করেন।
মাহফুজুর রহমান অধিকারকে জানান, ১৮ ফেব্রুয়ারি দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তিনি নিজ বাড়িতে ঘুমাচ্ছিলেন। হঠাৎ পাঁচ-ছয়জন লোক তার ঘরের মধ্যে ঢুকে জোর করে তাকে ঘরের বাইরে নিয়ে যায়। তার বিরুদ্ধে কি অভিযোগ তা তিনি তাদের কাছে জানতে চান। কিন্তু তারা তা না জানিয়ে পরিবারের সদস্যদের গাইবান্ধা সদর থানায় যোগাযোগ করতে বলে। মাহফুজুর রহমান বাধা দিতে চাইলে তারা তাদের হাতে থাকা আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে তার হাতে আঘাত করে। তাদের একজন নিজেদের ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সদস্য বলে পরিচয় দিয়ে তাকে ধরে জোর করে নিয়ে যেতে চায়। এ সময় মাহফুজুরের মা ও স্ত্রী তাকে না নেয়ার জন্য বাধা দিতে গেলে তারা ঘরে আগুন জ্বালিয়ে দেবার ভয় দেখায়। অদূরে অপেক্ষমান একটি সাদা মাইক্রোবাসে করে তারা তাকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয়ে নিয়ে যায়। সেখানে দ্বিতীয় তলার একটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে তার চোখ বেঁধে রাখা হয়। সেখানে তাকে হালকা খাবার এবং একটু ঘুমানোর সুযোগ দিয়ে একটানা এক মাস ২৬ দিন হাতকড়া পরিয়ে ঝুলিয়ে পিটানো হয়। ২২ মে তাকে মুখ্য মহানগর দায়রা জজ আদালতে হাজির করা হয়। সেখানে একজন পুলিশ সদস্যের কাছে জানতে পারেন তাকে নিউ মার্কেট থানার একটি চুরির মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে। ৫ জুন তার আইনজীবী মামলাটিতে জামিনের ব্যবস্থা করলে সেদিন জেলগেট থেকে তাকে ধানমণ্ডি থানার অন্য একটি চুরির মামলায় ডিবি পুলিশ গ্রেফতার করে। বর্তমানে তিনি ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে অবস্থান করছেন। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যোগাযোগ করে তার বক্তব্য নেয়া হয় বলে অধিকার তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করে। ১৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সদস্যদের হাতে বন্দি হওয়ার পর থেকে ২১ মে পর্যন্ত এই তিন মাস চার দিন তার পরিবার তার কোন খোঁজখবরই জানতো না বলে জানান মাহফুজ। গাইবান্ধা সদর থানার ওসি আফজাল হোসেন অধিকারকে জানান, ১৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকা থেকে ডিবি পুলিশের ১০ জনের একটি দল তার থানা এলাকায় আসে এবং সদর থানা থেকে একজন পুলিশ সদস্যকে তাদের সঙ্গে দিতে বলে। তখন ওসি আফজাল এএসআই নওশাদকে টিমের সঙ্গে দেন। এরপর ডিবি পুলিশ সদস্যরা শ্যামপুর থেকে মাহফুজুর রহমান নামে একজনকে ধরে নিয়ে গেছে বলে তিনি জানতে পারেন। এর বেশি তথ্য তিনি অধিকারকে জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের \\\'অধিকার\\\'-এর পক্ষ থেকে গাইবান্ধা সদর থানায় যোগাযোগ করা হলে থানা থেকে প্রাপ্ত এসআই সুব্রত কুমারের মোবাইল নম্বরে বারবার চেষ্টা করা হলে তিনি \\\'অধিকার\\\'-এর পরিচয় জানার পর বারবার ভুল নম্বর বলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। গাইবান্ধা সদর থানার শ্যামপুর গ্রামের মাহফুজুর রহমানকে ঢাকা থেকে ডিবির সদস্যরা ধরে নিয়ে আসার অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য \\\'অধিকার\\\'-এর পক্ষ থেকে ডিবির উপ-পুলিশ কমিশনার মোঃ মনিরুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ ব্যাপারে কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন
http://jugantor.us/enews/issue/2012/09/10/news0778.htm