Wednesday, 19th June, 2013
Choose Language:

সর্বশেষ
আমীরে জামায়াত/ভারপ্রাপ্ত আমীর বিভাগ
মহাসমাবেশে মকবুল আহমদ : জুলুম নির্যাতনের জবাব একদিন দিতে হবে
Tuesday, 10 July 2012
জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত আমীর মকবুল আহমদ বলেছেন, ঈমানদারদের এক কথা। কিন্তু আওয়ামীলীগের দুই রকম কথা। তারা ক্ষমতায় যাওয়ার আগে এক রকম কথা বলে, ক্ষমতায় গেলে আরেক রকম কথা বলে। তিনি বলেন, পুলিশ বাহিনীকে আইন শৃংখলা রক্ষার দায়িত্ব পালনের পরিবর্তে জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের গ্রেফতার, নির্যাতন ও মামলা দেয়া নিয়ে ব্যস্ত। যে জুলুম নির্যাতন করা হচ্ছে, এর জবাব জনগনের কাছে একদিন দিতে হবে। তিনি আরো বলেন, সরকার পুলিশ ও প্রশাসন দিয়ে জনগনকে আসতে বাধা দিলেও জনগন স্বত:স্ফুর্তভাবে এই মহাসমাবেশে অংশ গ্রহন করায় তিনি সকলেকে অভিনন্দন জানান। এর মধ্য দিয়ে প্রমাণিত হয়েছে জনগন সরকারের প্রতি অনাস্থা জানিয়েছে। তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, জনগনের জন্য কল্যাণ ও উন্নয়নের রাজনীতি উপহার দিন, নইলে তীব্র গণআন্দোলনের মাধ্যমে ক্ষমতা থেকে বিদায় করে দেয়া হবে। 
গতকাল নয়াপল্টনে চারদলীয় জোট ও সমমনা দলের উদ্যোগে আয়োজিত মহাসমাবেশে তিনি এ কথা বলেন। মহাসমাবেশে জামায়াত নেতৃবৃন্দের মধ্যে বক্তব্য রাখেন নায়েবে আমীর মাওলানা আবদুস সুবহান, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরীর নায়েবে আমীর হামিদুর রহমান আযাদ এমপি ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি দেলওয়ার হোসেন।
উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য মাওলানা এ টি এম মাসুম, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, চট্রগ্রাম মহানগরী আমীর মাওলানা শামসুল ইসলাম এমপি, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী সহকারী সেক্রেটারী মো: সেলিম উদ্দিন, ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ প্রমুখ। জামায়াতের পক্ষ থেকে সভা পরিচালনা করেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী সেক্রেটারী নুরুল ইসলাম বুলবুল।
মকবুল আহমদ তার বক্তব্যে বলেন, ২০০৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর চীন মৈত্রী আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, বিরোধী দলকে সংখ্যা দিয়ে বিবেচনা করবেন না। হানাহানির রাজনীতি পরিহার করবে। কিন্তু তারা একথা রাখেনি। তিনি বলেন, ওয়াদা করার সময় লিখে রাখা উচিত। কেননা দুনিয়ায় জবাব দিতে না হলেও আখেরাতে এর হিসাব দিতেই হবে।
তিনি বলেন, ঈমানদারদের এক কথা। কিন্তু আওয়ামীলীগের দুই রকম কথা। তারা ক্ষমতায় যাওয়ার আগে এক রকম কথা বলে, ক্ষমতায় গেলে আরেক রকম কথা বলে। তিনি বলেন, ক্ষমতায় যাওয়ার আগে তারা বলেছিল, কুরআন সুন্নাহ বিরোধী কোন কিছু তারা করবে না। কিন্তু ক্ষমতায় এসেই তারা সংবিধান থেকে আল্লাহর উপর আস্থা ও বিশ্বাস উঠিয়ে দিয়েছে।
ভারপ্রাপ্ত আমীর বলেন, আওয়ামীলীগ সবচেয়ে বেশী সাম্প্রদায়িক দল। তারা মামলা প্রত্যাহার কলে দলীয় লোকদের মামলাই প্রত্যাহার করে। চাকরী দিলেও দলীয় লোকের বাইরে দেয় না। ক্ষমতাসীনদের দায়িত্ব শুধু দলীয় লোকদের জন্য কাজ করাই নয়, গোটা জাতির জন্য কাজ করা। কিন্তু এ সরকার সে মর্যাদা রাখতে পারেনি।
তিনি বলেন, তারা ১০ টাকা কেজি চাল, দ্রব্যমুল্য কমানোর ওয়াদা করে ক্ষমতায় এসেছিল। কিন্তু এখন দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতিতে জনগনের নাভিশ্বাস। সন্ত্রাস, চাদাবাজী, গুম, বিচার বর্হিভুত হত্যাকান্ড, সাংবাদিক দম্পত্তি সাগর-রুনী হত্যাকান্ড হয়েছে। সরকার এ ব্যাপারে কিছু করতে পারেনি। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শিবিরের দুই নেতাকে হত্যা করা হয়েছে, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ শিবির নেতাকে র‌্যাব পরিচয়ে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তারা এখনো নিখোজ। তিনি বলেন, পুলিশ বাহিনীকে আইন শৃংখলা রক্ষার দায়িত্ব পালনের পরিবর্তে জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের গ্রেফতার, নির্যাতন ও মামলা দেয়া নিয়ে ব্যস্ত। যে জুলুম নির্যাতন করা হচ্ছে, এর জবাব জনগনের কাছে একদিন দিতে হবে।
মকবুল আহমদ বলেন, উচ্চ আদালত কেয়ারটেকার সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে রায় দিলেও ২ মেয়াদের জন্য এ ব্যবস্থা রাখার কথা বলে দিয়েছিল। কিন্তু সরকার তা মানেনি। এর মাধ্যমে সরকারই আদালত অবমাননা করেছে। কিন্তু এ ব্যবস্থা বাতিল করে চিরদিন ক্ষমতায় থাকতে পারবেন না।
তিনি সীমান্তে হত্যাকান্ড, ইভটেজিং, ভারতীয় সংস্কৃতির আমদানীর মাধ্যমে যুব সমাজের চরিত্র ধ্বংস করার তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ভারতের সাথে ৩বিঘা করিডোরের মীমাংসা হয়নি। বাংলাদেশ ট্রানজিট দিয়ে দিচ্ছে। তারা সীমান্তে কাটাতারের বেড়া দিচ্ছে। এটা কখনই বন্ধুত্বের লক্ষণ হতে পারে না।
জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমীর অধ্যাপক গোলাম আযম, বর্তমান আমীর মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী, নায়েবে আমীর মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী, সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ কামারুজ্জামান, আবদুল কাদের মোল্লাসহ নেতৃবৃন্দের মুক্তি দাবী করে তিনি বলেন, তাদের অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করে রাখা হয়েছে। বিচারের নামে প্রহসন বন্ধ করে তিনি তাদের মুক্তি দেয়ার দাবী জানান। তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, জনগনের জন্য কল্যাণ ও উন্নয়নের রাজনীতি উপহার দিন, নইলে তীব্র গণআন্দোলনের মাধ্যমে ক্ষমতা থেকে বিদায় করে দেয়া হবে।  
মাওলানা আবদুস সুবহান বলেন, শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী হয়েও সারাদেশে এক বিভীষিকাময় অবস্থার সৃষ্টি করেছে। সারাদেশে পরিবহন বন্ধ করে দিয়েছে। পথে পথে বাধা দেয়া হয়েছে। তারপর জনগন এ মহাসমাবেশে উপস্থিত হয়েছে। তিনি বলেন, মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী, মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী, আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীসহ গ্রেফতারকৃত নেতৃবৃন্দের মুক্তি দাবী করে বলেন, প্রহসনের বিচার বন্ধ করে তাদের অবিলম্বে মুক্তি দিন। তিনি বলেন, সংবিধানের ১৫দশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধান থেকে আল্লাহর প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস উঠিয়ে দিয়েছে। আবারো সংবিধান সংশোধন করে তা ফিরিয়ে আনতে হবে। তিনি ভারতের সাথে দেশ বিরোধী চুক্তি বাতিল করার দাবী জানান।
 
হামিদুর রহমান আযাদ এমপি বলেন, কেয়ারটেকার ব্যবস্থা পুন:বহালের দাবীতে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে ২ মাস পূর্বেই এ মহাসমাবেশের ঘোষণা দেয়া হয়েছিল। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে জনগন আজ ঐক্যবদ্ধ।  এতে সরকারের মাথা খারাপ হয়ে গেছে। শেখ হাসিনা ভীত হয়ে পড়েছে। তিনি বিরোধী দলীয় নেত্রীর প্রতি কঠোর কর্মসূচি দেয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, অতীতে স্বৈরাচারের পতন যেভাবে হয়েছে, এ সরকারও সেভাবে পালিয়ে যেতে বাধ্য হবে। তিনি বলেন, আজকের মহাসমাবেশের উপস্থিত প্রমান করে শেখ হাসিনার প্রতি জনগনের আস্থা নেই। তিনি অবিলম্বে নেতৃবৃন্দের মুক্তি দাবী করেন।
ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি দেলোয়ার হোসেন বলেছেন, বর্তমান সরকার গণতন্ত্রের ছদ্মাবরণে ফ্যাশিষ্ট সরকার। তারা গনতন্ত্রে বিশ্বাস করে না। অতীতে সকল গনতান্ত্রিক আন্দোলনে ছাত্র সমাজ অগ্রনী ভূমিকা পালন করেছে। ছাত্র সমাজ ঐক্যবদ্ধ হয়ে কোন অগনতান্ত্রিক সরকারই ক্ষমতায় থাকতে পারে না। তিনি বর্তমান সরকারের অগনতান্ত্রিক কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে জনগনকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান।
শিবির সভাপতি বলেন, শিক্ষাঙ্গনে এখন কেউ নিরাপদ নয়। ছাত্রলীগ শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ২ শিবির নেতাকে হত্যা করা হয়েছে। তিনি বলেন, সর্বদলীয় ছাত্রঐক্য ছাত্রসমাজকে সাথে নিয়ে ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে দুর্বার গণআন্দোলন গড়ে তুলবে। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ২ ছাত্র নিখোজ হওয়ার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, অবিলম্বে তাদের ফিরিয়ে দিতে হবে। নইলে কঠোর কর্মসূচি দেয়া হবে।