Tuesday, 18th June, 2013
Choose Language:

সর্বশেষ
ট্রাইবুনাল
কাদের মোল্লার মামলায় প্রথম সাক্ষীর জেরা শেষ আজ দ্বিতীয় সাক্ষী
Tuesday, 10 July 2012
জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে গতকাল সোমবার তৃতীয় দিনের মতো সাক্ষ্য দিয়েছেন মোজাফফর আহমদ খান। গতকাল তিনি ট্রাইব্যুনালে বলেছেন, রাজনৈতিক কারণে আমি কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে সাক্ষী দিচ্ছি না। কাদের মোল্লা জামায়াতের রাজনীতি করেন আর আমি আওয়ামী লীগ করি এ কারণে সাক্ষী দিচ্ছি একথাও সত্য নয়। গতকাল জেরা করেন এডভোকেট ইকরামুল হক। আজ মঙ্গলবার কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেবেন আওয়ামী লীগের নেতা সৈয়দ শহীদুল হক মামা।
প্রশ্ন : ঘাটারচর খানবাড়িতো কেরানীগঞ্জের ভেতরে?
উত্তর : হ্যাঁ।
প্রশ্ন : দূরত্ব কত?
উত্তর : একই ইউনিয়নে। কোয়ার্টার মাইল হবে।
প্রশ্ন : কোন দিকে?
উত্তর : আটিবাজারের কাছাকাছি।
প্রশ্ন : মুক্তিযোদ্ধাদের সেকেন্ড ক্যাম্প ছিল হাজী ইউসুফ আলী মাস্টারের বাড়িতে, ঠিক?
উত্তর : হ্যাঁ, গ্রামের নাম মনোহরদী।
প্রশ্ন : প্রথম ও সেকেন্ড ক্যাম্পের দূরত্ব কত হবে?
উত্তর : ৪ কিলোমিটার হবে।
প্রশ্ন : তৃতীয় ক্যাম্প কোথায় ছিল?
উত্তর : ৩ নং ক্যাম্প ছিল নাজিরপুরে মোবারক সাহেবের বাড়িতে।
প্রশ্ন : মোবারক সাহেব বেঁচে আছেন?
উত্তর : না, তবে ছেলেমেয়েরা জীবিত আছেন।
প্রশ্ন : ৪ নং ক্যাম্প ছিল নিমতলীর ডা. করিম সাহেবের বাড়িতে?
উত্তর : হ্যাঁ।
প্রশ্ন: আপনার ক্যাম্প থেকে ৪ নং ক্যাম্পের দূরত্ব কত ছিল?
উত্তর : উত্তর-পূর্ব দিকে প্রায় ৫ কিঃ মিঃ দূরে।
প্রশ্ন : সবগুলো ক্যাম্পের দায়িত্বে কে ছিলেন?
উত্তর : মোস্তফা মুহসীন মন্টু সাহেব।
প্রশ্ন : করিম সাহেব বেঁচে আছেন?
উত্তর : না, তবে ছেলে-মেয়েরা বেঁচে আছেন?
প্রশ্ন : মোস্তফা মহসীন মন্টু কি জীবিত?
উত্তর : হ্যাঁ, বেঁচে আছেন।
প্রশ্ন : মতিউর রহমান কে?
উত্তর : আমার যে ক্যাম্পটি ছিল সেটি ছিল মতিউর রহমান সরকারের বাড়িতে। আরেকজন মতিউর রহমান ভূঁইয়া ছিলেন তার ছেলের নাম হাবিবুর রহমান। তিনি জামায়াতের নেতা ছিলেন। সম্প্রতি তিনি ইন্তিকাল করেছেন।
প্রশ্ন : ১৭/১২/২০০৭ তারিখের সিআর মামলায় জবানবন্দিতে আপনি কাদের মোল্লার কথা বলেনি, ঠিক?
উত্তর : হ্যাঁ, কাদের মোল্লার কথা বলা হয়নি। একই সাথে ২৫ নবেম্বর স্থানীয় রাজাকাররা ঘাটারচরে কাদের মোল্লার নেতৃত্বে লুটপাট, হত্যা, অগ্নিসংযোগ করেছে একথাও বলি নাই।
প্রশ্ন : সিআর মামলায় আরজিতে আপনি বলেছেন \'৭৫ সাল পর্যন্ত সকল আসামীরা জেলে ছিলেন।
উত্তর : আমার মনে নেই।
প্রশ্ন : আপনি যে ফ্রিডম ফাইটার ছিলেন, ভারতে গিয়ে ট্রেইনিং নিয়েছেন এ সংক্রান্ত কোনো সার্টিফিকেট কোর্টে হাজির করেননি?
উত্তর : কেউ কাগজ চায়নি। কোর্ট চাইলে দিতে পারবো।
প্রশ্ন : কাদের মোল্লাকে অস্ত্র হাতে কখনোই দেখেননি।
উত্তর : সত্য নয়।
প্রশ্ন : যেহেতু আপনি আওয়ামী লীগ করেন আর কাদের মোল্লা জামায়াতের নেতা তাই রাজনৈতিক কারণে তাকে হেনস্থা করতেই এই মামলায় সাক্ষী দিচ্ছেন।
উত্তর : সত্য নয়।
এদিকে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আটক বিএনপি নেতা আব্দুল আলীমের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু করতে আগামী ৬ আগস্ট দিন ধার্য করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২
গতকাল সোমবার ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান এটিএম ফজলে কবীরের নেতৃত্ব তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল রাষ্ট্রপক্ষের সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন শেষে সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য এ দিন ধার্য করেন।
গতকাল রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী রানা দাসগুপ্ত ও একেএম সাইফুল ইসলাম সূচনা বক্তব্য পাঠ করেন। এ সময় আসামীপক্ষের আইনজীবীরাও উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, মানবতাবিরোধী অপরাধে আটক আসামীদের মধ্যে একমাত্র আবদুল আলীমই জামিনে রয়েছেন।