ট্রাইবুনাল
কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে অভিযোগ পড়ে শোনালেন প্রসিকিউটর \ সাক্ষ্যগ্রহণ ৩ জুলাই
Thursday, 21 June 2012
জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে কথিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের সূচনা বক্তব্য শেষ হয়েছে। গতকাল বুধবার সকালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ ৯৬ পৃষ্ঠার অভিযোগ পড়ে শোনান প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ। আগামী ৩ জুলাই ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষীদের বক্তব্য পর্যায়ক্রমে গ্রহণ করা হবে। একই সাথে ডিফেন্স পক্ষের সাক্ষীদের তালিকা জমা দিতেও সময় নির্ধারণ করে দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল।
গতকাল ট্রাইব্যুনালে কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে আনীত ৬টি অভিযোগের গ্রাউন্ড তুলে ধরে ৯৬ পৃষ্ঠার বিবরণ পাঠ করেন প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ। অভিযোগপত্র পড়ে শোনানোর এক পর্যায়ে চেয়ারম্যান এ টি এম ফজলে কবির বলেন, সবকিছু পড়ে সময় নষ্ট করার দরকার নেই। কিছু সিলেক্টেড বিষয় পড়লেই হবে। এর আগে সকাল ১০টা ৩৫ মিনিটে চেয়ারম্যান ফজলে কবিরের নেতৃত্বে অপর দুই সদস্য ওবাইদুল হাসান ও শাহিনুর ইসলাম ট্রাইব্যুনালে বসেন। চেয়ারম্যানের অনুমতি নিয়ে প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ চার্জের মূল পয়েন্টগুলো পড়েন। চার্জের শুনানিতে এক পর্যায়ে সুলতান মাহমুদ বলেন, আমরা যে আইনে এখানে বিচার করছি ইতোমধ্যে এই আইন বিশ্বের অনেক দেশেই প্রশংসিত হয়েছে। অনেক বিশেষজ্ঞ এই আইনটি নিয়ে প্রশংসা করেছেন। তখন সদস্য শাহিনুর ইসলাম বলেন, কোনো দেশের বিশেষজ্ঞ কবে বা কোথায় আমাদের এই আইনের প্রশংসা করেছেন বা কোন সেমিনারে তিনি বলেছেন সে বিষয়ে কোনো রেফারেন্স আপনার কাছে আছে কি? জবাবে কোন রেফারেন্সই দেখাতে পারেননি প্রসিকিউটর। শুধু বলেছেন, আমাদের এই আইন স্বয়ংসম্পূর্ণ। বাইরে কোনো দেশের রেফারেন্সের আমাদের দরকার নেই। ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউটর বলেন, কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে তার সব তথ্য প্রমাণ আমরা সাক্ষীদের মাধ্যমে ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করবো। এই বিচার দেশে আইনের শাসন, গণতন্ত্র আর মানবাধিকার রক্ষার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আরো বলেন, জাতির কাঙ্ক্ষিত এই বিচার রাজনৈতিক কোনো উদ্দেশ্য নিয়ে করা হচ্ছে না। রাজনৈতিক বা ব্যক্তি বিদ্বেষের কারণেও এই বিচার হচ্ছে না। রাষ্ট্রপক্ষের বক্তব্যের পরে ট্রাইব্যুনালের অনুমতি নিয়ে ডিফেন্স পক্ষের আইনজীবী মুন্সী আহসান কবীর বলেন, আবদুল কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে যে ৬টি অভিযোগ আনা হয়েছে তার জন্য আমাদের ডিফেন্স পক্ষের সাক্ষীদের নামের তালিকা জমা দিতে কমপক্ষে ৮ সপ্তাহ সময় চান তিনি। একই সাথে তিনি বলেন, আমরা ঘটনার স্থানে পরিদর্শনে যাওয়ার আগে ট্রাইব্যুনালে জানিয়ে যেতে চাই। কেননা আমাদের জীবনের নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে ঘটনার স্থানে যেতে চাই না। তিনি কয়েক মাস আগে পিরোজপুরে মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মামলার ঘটনার স্থান পরিদর্শনে যাওয়ার পর আমরা আইনজীবীরা মাত্র পাঁচ মিনিটের জন্য প্রাণে বেঁচে এসেছি। তাই কাদের মোল্লার মামলার ঘটনার স্থানে যাওয়ার আগে ট্রাইব্যুনালকে অবহিত করে যাব। তখন সদস্য শাহিনুর ইসলাম বলেন, আমাদের অবহিত করার কোনো প্রয়োজন নেই। ইট ইজ নট আওয়ার বিজনেজ। আপনারা থানায় জিডি করে যেতে পারেন।
ডিফেন্স টিমের ৮ সপ্তাহ সময় আবেদন নাকচ হলে সাক্ষীদের তালিকা জমা দিতে মাত্র ৩ সপ্তাহ সময় চান মুন্সী আহসান কবির। কিন্তু চেয়ারম্যান সেই আবেদনও নাকচ করে দিয়ে আগামী ৩ জুলাই দিন ধার্য করে ট্রাইব্যুনাল।
মাওলানা সাঈদীর রোগমুক্তি কামনায় মক্কা ও মদীনায় হাজারো মুসল্লির ওমরাহ ও তাওয়াফ পালন
জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর আন্তর্জাতিক মোফাসসিরে কুরআন, বরেণ্য ইসলামী চিন্তাবিদ মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী কারাবন্দি অবস্থায় মারাত্মক অসুস্থতায় ভুগছেন। কারাবন্দি অবস্থায় মায়ের মৃত্যুর শোক ভুলতে না ভুলতেই কিছু দিনের মাথায় স্নেহের সবচেয়ে বড় ধন বড় সন্তান মাওলানা রাফীক বিন সাঈদী ট্রাইব্যুনালে বিচার চলাকালীন অসুস্থ হয়ে ইন্তিকাল করেন। মারাত্মক শোকে শোকাহত মাওলানা সাঈদী বড় সন্তানের জানাযা শেষ করে কারাগারে ফেরার পথে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। মুহূর্তেই অসুস্থতার খবর ছড়িয়ে পড়ে দেশ থেকে দেশের বাইরে। উদ্বিগ্ন ও শংকিত হয়ে পড়েন দেশ ও দেশের বাইরের অগণিত সাধারণ মানুষ। বিভিন্নভাবে আল্লাহর কাছে রোগমুক্তি কামনায় দোয়া করেন তার জন্য। বিশেষ করে সৌদি আরবের মক্কা ও মদীনায় হাজারো মুসল্লি কেউ বা ওমরাহ করে কেউ বা তাওয়াফ করে ও কেউ বা রোযা রাখে আবার অনেকে কা\'বার গিলাফ ধরে মাওলানা সাঈদীর রোগমুক্তির জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করেন। তাদের সকলেরই আকুতি মাওলানা সাঈদী যেন কুরআনের আওয়াজ নিয়ে আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে ফিরে আসতে পারেন। প্রেসবিজ্ঞপ্তি।