Saturday, 25th May, 2013
Choose Language:

সর্বশেষ
ট্রাইবুনাল
কামারুজ্জামানের রিভিউ পিটিশন নিত্তি: একই অপরাধে দুইটি অভিযোগ গ্রহণযোগ্য নয় টেপামিয়া হত্যাকান্ডে তিনি উপস্থিত ছিলেন না
Wednesday, 20 June 2012
জামায়াতে ইসলামীর সহকারি সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের মামলায় চার্জ গঠনের আদেশের বিরুদ্ধে ডিফেন্স পক্ষের রিভিউ পিটিশনের নিত্তি করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।  গতকাল মঙ্গলবার সকালে ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান এ টি এম ফজলে কবিরের নেতৃত্বে অপর দুই সদস্য ওবাইদুল হাসান ও শাহিনুর ইসলাম রিভিউ পিটিশনের নিত্তির এই আদেশ দিয়েছেন। ট্রাইব্যুনালের আদেশে মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের বিরুদ্ধে আনীত ৭টি অভিযোগের দুই বিষয়ে ডিফেন্স পক্ষের আবেদন গ্রহণ করেছে ট্রাইব্যুনাল। গতকাল ট্রাইব্যুনালে ডিফেন্স পক্ষে উপস্থিত ছিলেন ব্যারিস্টার এহসান সিদ্দিক। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে উপস্থিত ছিলেন প্রসিকিউটর সাইফুল ইসলাম।
গতকাল ট্রাইব্যুনালের আদেশে বলা হয়েছে, ফরমাল চার্জে কামারুজ্জামানকে বিভিন্ন অভিযোগে প্রধান আসামী আবার সহযোগী এই দুইভাবেই অভিযুক্ত করা হয়েছে। কিন্তু রিভিউ পিটিশনের আদেশের প্রেক্ষিতে এখন যেকোন একটি শব্দ ব্যবহার করা হবে। অর্থাৎ যেখানে কামারুজ্জামানকে প্রধান আসামী বলা হবে সেখানে আর তাকে সহযোগিতার অভিযোগ দেয়া যাবে না। একইভাবে সহযোগিতার অভিযোগ আনা হলে সেখানে প্রধান হিসেবে অভিযুক্ত বলা যাবে না।
রিভিউ পিটিশনের আদেশের দ্বিতীয় বিষয়টি ছিল, ফরমাল চার্জশীটের ৭নং অভিযোগে উল্লেখিত ১৯৭১ সালের রমযান মাসের ২৭ তারিখে কামারুজ্জামান জনৈক টেপা মিয়ার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে আরো ৬ জনসহ মোট সাতজনকে ধরে নিয়ে গিয়ে নির্যাতন চালায়। এক পর্যায়ে এই সাতজনকেই নিকটস্থ নদীর কাছে নিয়ে গুলী করে হত্যা করে। তবে টেপা মিয়া নদীতে ঝাঁপ দিয়ে নিজে প্রাণে বেঁচে গেলেও অন্য ছয়জন মারা যায়। টেপা মিয়ার পায়ে গুলী লেগে তিনি মারাত্মকভাবে আহত হন। এই ঘটনায় তদন্ত কর্মকর্তা ট্রাইব্যুনালে জমা দেয়া তার রিপোর্টে লিখেছেন, কামারুজ্জামান নিজে ঐ স্থানে উপস্থিত থেকে এই হত্যাকান্ডে জড়িত ছিলেন। কিন্তু  এই ঘটনায় ৩১ নং  সাক্ষী তার জবানবন্দীতে বলেছেন, কামারুজ্জামান নিজে সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। তাই রিভিউ পিটিশনের আদেশে ট্রাইব্যুনাল বলেছেন, এখানে ৭নং অভিযোগে কামারুজ্জামান নিজে উপস্থিত ছিলেন এই শব্দ বাদ দিয়ে সেখানে কামারুজ্জামানের নির্দেশনায় হত্যাকান্ড ঘটেছে এমনটি বিবেচনা করা যেতে পারে।
এদিকে আদেশের পর ট্রাইব্যুনালে দাঁড়িয়ে প্রসিকিউটর সাইফুল ইসলাম বলেন, কামারুজ্জামানকে গ্রেটার ময়মনসিংহের আল বদর বাহিনীর চিফ অর্গানাইজার হিসেবে চার্জশীটে লিখতে হবে। তখন সদস্য শাহিনুর ইসলাম বলেন, আপনি কী এরকম কোন আবেদন আমাদের কাছে জমা দিয়েছেন? যদি আবেদনই না করে থাকেন তাহলে এটা বলার কোন অর্থ নেই। তখন চেয়ারম্যান ফজলে কবির বলেন, প্রসিকিউটর যেমনটি চাইছেন সেটিই চার্জশীটে লেখা রয়েছে। তখন সদস্য শাহিনুর ইসলাম বলেন, এখন প্রসিকিউটরের উচিত হবে প্রথমে রিভিউ আদেশের কপি সংগ্রহ করা। এর পরে কোন নতুন সংশোধনী থাকলে আবেদন করে সেটা  সংযোজনের আবেদন করা। শাহিনুর ইসলাম আরো বলেন, মিস্টার প্রসিকিউটর আপনারা ফরমাল চর্জে যা লিখে জমা দিয়েছেন সেগুলোই আগে প্রমাণ করুন।
উল্লেখ্য, এর আগে গত ৪ জুন  ট্রাইব্যুনাল-২  কামারুজ্জামানের বিরুদ্ধে ৭টি অভিযোগে চার্জ গঠনের আদেশ দেন। এ মামলার পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণের তারিখ বা ওপেনিং স্ট্যাটমেন্টের জন্য আগামী ২ জুলাই দিন ধার্য রয়েছে। কামারুজ্জামানের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ের নানা অভিযোগ এনে গত বছরের ২১ জুলাই তদন্ত শুরু করে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত কর্মকর্তারা। এরপর ওই বছরের ২ আগস্ট তাকে ট্রাইব্যুনালে গ্রেফতার  দেখানো হয়। প্রসিকিউশন গত ১৫ জানুয়ারি ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দাখিল করলে ৩১ জানুয়ারি তা আমলে নেয় ট্রাইব্যুনাল।