আমীরে জামায়াত/ভারপ্রাপ্ত আমীর বিভাগ
সারাদেশে পাখি শিকারের মত ৫০ জন নিরীহ মানুষকে গুলি করে হত্যার প্রতিবাদ
Thursday, 28 February 2013
(রাত ৮ টায় প্রকাশিত)
সারাদেশে পাখি শিকারের মত ৫০ জন নিরীহ মানুষকে গুলি করে হত্যার প্রতিবাদ ও মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা বন্ধের আহ্বান জানিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত আমীর জনাব মকবুল আহমাদ নিম্নোক্ত বিবৃতি দিয়েছেন :-
\"আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত রায় ঘোষণার পর সারাদেশে সাধারণ জনতা এ রায় প্রত্যাখ্যান করে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় প্রতিবাদ জানালে সরকারের পুলিশ বাহিনী সাধারণ জনতার উপর গুলি চালিয়ে ৫০ জনকে হত্যা করে । পুলিশের গুলিতে রংপুরে ৭ জন, চট্টগ্রামে ৩ জন, কঙ্বাজারে ৪ জন, সিরাজগঞ্জে ৩ জন, নারায়নগঞ্জে ৩ জন, দিনাজপুরে ৩ জন, ঠাকুরগায়ে ৫ জন, চাপাইনবাবগঞ্জে ৪ জন, নোয়াখালীতে ৩ জন, মৌলভিবাজারে ৩ জন, সাতক্ষিরায় ৫ জন, গাইবান্ধায় ৩ জন, কুমিল্লা, নাটোর, যশোর, লক্ষ্ণীপুরে ১ জন করে মোট ৫০ জন নিহত হয়।
সারাদেশে পুলিশের গুলিতে আহত হয় ৩ হাজারের মত সাধারণ জনতা। তার মধ্যে ৫০০ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। সরকার সাধারণ মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে। এ সরকারের হাতে মানুষের জীবনের কোন নিরাপত্তা নেই। সরকারের গুলির হাত থেকে শিশু, নারী, বৃদ্ধ কেউ রেহাই পায়নি। কোন যুদ্ধরত দেশেও এই ভাবে একদিনে ৫০ জন লোকের নিহত হওয়ার মর্মান্ত্মিক ঘটনা সংঘটিত হয়নি।
ধর্মের অবমাননার প্রতিবাদ জানালে ২০ জন সাধারণ মুসলস্নীকে গুলি করে হত্যা করেছে এই সরকার। মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলা এক বিরানভূমিতে পরিণত হয়েছে। এই রক্ত পিপাসু সরকার মানুষের জীবন নিয়ে যে হুলিখেলা খেলছে তার প্রতিরোধে দেশবাসীকে সোচ্চার হওয়া ছাড়া আর কোন পথ নেই।
গত ৩ মাস যাবৎ পুলিশ নির্মম হত্যাযজ্ঞে মেতে উঠেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্বয়ং নিজে পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন। পুলিশের কোন কোন অফিসার জামায়াত-শিবিরকে দেখামাত্রইগুলি করার হুকুম দিয়েছেন। ফলে পুলিশ অফিসাররা অনেককে চোখ তুলে হত্যা করেছে, অনেকের গায়ে বন্দুক ঠেকিয়ে গুলি করেছে, অনেককে বেধড়ক পিটিয়ে চিরদিনের তরে পঙ্গু করে দিয়েছে। বারবার বিবৃতি দিয়ে এ জুলুম ও পুলিশের গুলি বন্ধ করার আহ্বান জানানো সত্বেও সরকার কান দিচ্ছে না। সরকারের কাছে দেশ, দেশের মানুষের জীবনের কোন মূল্য নেই।
এ পরিস্থিতিতে সরকরের জুলুম, নীপিড়ন ও ৫০ জন নিরীহ নাগরিক হত্যার প্রতিবাদে আমি বিশ্ব মানবাধিকার সংস্থা, গণতন্ত্রকামী সংগঠন, জাতিসংঘ ও দেশবাসীকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। সরকারের এই নির্মম হত্যাকা-ের প্রতিবাদে জামায়াতে ইসলামীর পÿ থেকে ঘোষিত ১ মার্চ দোয়া দিবস, ২ মার্চ দেশব্যাপী বিÿোভ দিবস এবং ৩ ও ৪ মার্চ রবি ও সোমবার ৪৮ ঘণ্টা লাগাতার হরতাল কর্মসূচী পালন করার জন্য আমি দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।\"