Sunday, 26th May, 2013
Choose Language:

সর্বশেষ
বিবৃতি
গণ-প্রত্যাখ্যাত রায়ের বিরুদ্ধে জনতার স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলনকে স্ত্মব্ধ করে দেয়ার জন্য সরকার কর্তৃক গুলি চালিয়ে সারা দেশে ৪৪ জন নিরীহ মানুষকে হত্যা করার প্রতিবাদে আগামী রবি ও সোমবার ৪৮ ঘণ্টার হরতাল কর্মসূচী ঘোষণা
Thursday, 28 February 2013
(সন্ধ্যা ৭ টায় প্রকাশিত)
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর বিশ্ববরেণ্য মুফাস্‌সিরে কুরআন আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগে দায়ের কৃত মিথ্যা মামলায় ট্রাইব্যুনাল-১ কর্তৃক প্রদত্ত রায় প্রত্যাখ্যান করে ও গণ-প্রত্যাখ্যাত রায়ের বিরুদ্ধে জনতার স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলনকে স্ত্মব্ধ করে দেয়ার জন্য সরকার কর্তৃক গুলি চালিয়ে সারা দেশে  ৪৪ জন  নিরীহ মানুষকে হত্যা করার প্রতিবাদে আগামী রবি ও সোমবার ৪৮ ঘণ্টার হরতাল কর্মসূচী ঘোষণা করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারী জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান আজ ২৮ ফেব্রম্নয়ারী নিম্নোক্ত বিবৃতি প্রদান করেছেন :-
\" আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী বিশ্ববরেণ্য মুফাস্‌সিরে কুরআন। বিগত ৫০ বছর যাবৎ দেশে বিদেশে তিনি কুরআনের তাফসীর করে আসছেন। তার তাফসীর শুনে বহু মানুষ ইসলামী আদর্শের পতাকাতলে স্থান গ্রহণ করেছে। তিনি কোটি কোটি মানুষের প্রিয় ব্যক্তিত্ব। তার জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে আওয়ামীলীগ সরকার তার কণ্ঠকে স্ত্মব্ধ করে দেয়ার জন্য তথাকথিত মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের মিথ্যা মামলা দায়ের করে। তার বিরুদ্ধে যেসব কল্প-কাহিনী রচনা করা হয়েছে তা শতাব্দীর নিকৃষ্ট মিথ্যাচার। তিনি ১৯৭৯ সাল পর্যন্ত্ম কোন রাজনৈতিক দলের সাথে সংশিস্নষ্ট ছিলেন না। মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে অধিকাংশ সময় তিনি যশোরে ছিলেন।
তার বিরুদ্ধে সরকার যে ষড়যন্ত্র করেছে তার প্রকাশ পায় স্কাইপ সংলাপের মাধ্যমে। ট্রাইব্যুনাল-১ এর সাবেক চেয়ারম্যান, প্রসিকিউটর ও বেলজিয়াম প্রবাসী আহমেদ জিয়াউদ্দীনের যোগসাজসে যে অভিযোগনামা তৈরী করা হয় তা সংবাদপত্রে প্রকাশিত স্কাইপ সংলাপের মাধ্যমে গোটা বিশ্ববাসী জানতে পারে। ব্যাপক সমালোচনার মুখে বিচারপতি নিজামুল হক নাসিম পদত্যাগ করেন। তার পদত্যাগে স্কাইপ সংলাপের সত্যতা প্রমাণিত হয়। ট্রাইবুনালের সাবেক চেয়ারম্যান ষড়যন্ত্রের যেসব উপাদান রেখে যান তার ভিত্তিতে বিচার কার্যক্রম চলতে থাকে।
চেয়ারম্যানের পদত্যাগের পর আল্লামা সাঈদীর পÿ থেকে পুনঃবিচারের আবেদন করা হয়। কিন্তু কোন ধরনের যুক্তি বা আইনী বিষয় বিবেচনায় না নিয়ে সরকারের নির্দেশিত ছকে বিচার কার্যক্রম পরিচালার স্বার্থে পুর্নবিচারের আবেদন প্রত্যাখ্যাত হয়। ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে রচিত অভিযোগ আমলে নিয়ে আজ তার বিরুদ্ধে আদালত যে রায় দিয়েছে দেশের জনগণ তা ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছে।
বিচারকগণ ৮টি অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার যে ঘোষণা দিয়েছেন কোন বিবেচনায়ই তা গ্রহণযোগ্য নয়। কোন একটি অভিযোগেরও প্রত্যক্ষ সাক্ষী সরকার পক্ষ পেশ করতে পারেনি। যেসব দলিল বা প্রমাণপত্র আদালতে সরকার পক্ষ উপস্থাপন করেছে তাতে কোথাও দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে ৭১ এর ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত করার কোন সুযোগ নেই। স্কাইপ কেলেঙ্কারির হোতা বিচারপতি নিজামুল হক নাসিমও সাঈদীর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাকে দেশীয় সালিশ দরবার বলে অভিহিত করেছিলেন। আজ ষড়যন্ত্রমূলকভাবে মিথ্যার বিভিন্ন উপাদানে গঠিত প্রত্যক্ষ সাক্ষ্য বিহীন অভিযোগসমূহ আমলে নিয়ে সরকারী ষড়যন্ত্র বাস্ত্মবায়নের যে রায় আদালত ঘোষণা করেছে তা বিচার বিভাগীয় হত্যা ছাড়া আর কিছু নয়। দেশবাসী ঘৃণাভরে এ রায় প্রত্যাখ্যান করেছে।
>    আল্লামা সাঈদীর বিরম্নদ্ধে আনীত ৬ নং অভিযোগে বলা হয় মাখন লাল সাহার দোকান থেকে সোনা রূপা পাকিস্ত্মানী সেনাবাহিনী লুট করে নিয়ে যায়, ঐ সময় সাঈদী তাদের সাথে ছিলেন। এ ঘটনার কোন সাক্ষী ট্রাইব্যুনালে আনা হয়নি।
>    ৭ নং চার্জে আওয়ামীলীগ নেতা নূরুল ইসলাম খান এর বাড়ীতে অগ্নিসংযোগ ও তার বাড়ী লুটপাট ও নির্যাতনের কথা বলা হয়েছে। তার ছেলে শহীদুল ইসলাম খান সেলিমকে সাক্ষীর জন্য ২ বার ঢাকায় এনেও সরকার পক্ষ ট্রাইব্যুনালে তার সাক্ষ্য দেয়নি।
>    ৮ নং চার্জে মানিক পাসারী ও তার ভাই আলমগীর পাসারীর বাড়ীতে অগ্নিসংযোগ, লুটপাট ও তাদের বাড়ীর কাজের লোক ইব্রাহীম কুট্টিকে হত্যা এবং মফিজ উদ্দিনের উপর নির্যাতনের কথা বলা হয়। অথচ: ১৯৭১ সালে আলমগীর পাসারীর জন্মই হয়নি। ইব্রাহীম কুট্টিকে ৮ মে ১৯৭১ সালে হত্যার অভিযোগ থাকলেও ইব্রাহীম কুট্টির স্ত্রী মমতাজ বেগম তার স্বামীকে ১লা অক্টোবর হত্যা করা হয়েছে মর্মে এজাহার করেছিল ১৯৭২ সালে। সে মামলায় অভিযোগ পত্র দাখিল করা হয়। যাতে সাঈদী সাহেবকে আসামী করা হয়নি। উক্ত মামলার এজাহারের কপি ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা হয়। মানিক পাসারির দাখিলকৃত এজাহারে মফিজকে নির্যাতনের কোন বর্ণনা দেয়া হয়নি। ট্রাইব্যুনাল এসব বিষয় বিবেচনায় গ্রহণ করেনি।
>    ১০ নং চার্জে উমেদপুর গ্রামে বিশাবালী হত্যার অভিযোগ আনা হয়। এ অভিযোগে বলা হয় সাঈদীর নির্দেশে জনৈক রাজাকার গুলি চালিয়ে তাকে হত্যা করেছে। কে এ হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে, হত্যার পর লাশ কি হয়েছে তার কোন সাক্ষী ট্রাইব্যুনালে পেশ করা হয়নি। বরং সাঈদী সাহেবের পক্ষে সাক্ষ্য দিতে আসা বিশাবালীর ভাই সুখরঞ্জনবালীকে ট্রাইব্যুনাল গেট থেকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী অপহরণ করে নিয়ে যায়। আজও তার কোন সন্ধান মেলেনি। ৮ ও ১০ নং এ বর্ণিত দুটো মিথ্যা অভিযোগে ট্রাইব্যুনাল আলস্নামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে মৃত্যুদন্ড প্রদান করে যা চরম অন্যায়, অযৌক্তিক ও অগ্রহণযোগ্য।
>    ১১ নং চার্জে মাহবুব আলম হাওলাদার এবং তার ভাই মজিদ হাওলাদারের বাড়ী থেকে স্বর্ন ও অর্থলুটের অভিযোগ আনা হয়। এ অভিযোগের পক্ষে সরকার পক্ষ কোন সাক্ষী ট্রাইব্যুনালে হাজির করেনি।
>    ১৪ নং অভিযোগে বলা হয় গৌরাঙ্গ সাহার বিবাহযোগ্য তার ছোট তিন বোনকে পাকিস্ত্মান আর্মীদের হাতে ধর্ষণের উদ্দেশ্যে তুলে দেন সাঈদী। অথচ: জাতীয় পরিচয় পত্র থেকে গৌরাঙ্গ সাহার জন্ম ১৯৬৩ সালে। কাজেই ঐ সময় তার ৩ বোনের বিবাহযোগ্য থাকার কথাটি সম্পূর্ণ মিথ্যা।
>    ১৬ নং চার্জে মধুসূধন ঘরামীর স্ত্রী শেফালী ঘরামীকে ধর্ষনের সময় তিনি উপস্থিত ছিলেন কিন্তু কোন বাধা দেননি বলে অভিযোগ আনা হয়। মধুসূধন দাবী করেছেন ধর্ষণের ৪ মাসের মধ্যে তার স্ত্রীর সন্ত্মান ভূমিষ্ট হয়েছে। এ অভিযোগটি কতবড় মিথ্যা তা এ থেকেই প্রমাণিত।
>    ১৯ নং চার্জে ধর্মান্ত্মর করনের অভিযোগে বলা হয় তিনি জোর করে অনেক হিন্দুকে মুসলমান বানিয়েছেন। কিন্তু এ অভিযোগের স্বপক্ষে সরকার পক্ষ বিশ্বাসযোগ্য কোন সাক্ষী হাজির করেনি।
উলেস্নখিত অভিযোগ প্রমাণের জন্য বিশ্বাসযোগ্য, সম্মানিত কোন ব্যক্তিকে স্বাক্ষী হিসেবে হাজির না করে কলাচোর, স্ত্রী হত্যা প্রচেষ্টার আসামী, যৌতুকে আইনে দন্ডিত ব্যক্তি, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নকলের দায়ে বহিস্কৃত, ট্রলার চুরির দায়ে অভিযুক্ত এবং আওয়ামী লীগের সুবিধাভোগী কিছু দালাল ব্যক্তিকে স্বাক্ষী হিসাবে ট্রাইব্যুনালে হাজির করে। যাদেরকে ট্রাইব্যুনাল বিশ্বাস করেছেন এবং আল্লামা সাঈদীকে সর্বোচ্চ দন্ডে দন্ডিত করেন। এটা তার প্রতি চরম অবিচার। বিচারের নামে প্রহসন, নাস্ত্মিক ক্লগারদের কাছে আত্মসমর্পন ছাড়া আর কিছুই নয়। এই রায় জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। দেশবাসী তা প্রত্যাখ্যান করছে।
আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর নেতৃত্বে বাংলাদেশে যে ইসলামী আন্দোলনের অগ্রযাত্রা চলছে তাতে ঈর্ষান্বিত হয়েই সরকার তাকে আদালতের মাধ্যমে হত্যা করার যে পরিকল্পনা নিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল-১ এ আজ তার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হলো মাত্র। সরকার দেশ থেকে ইসলাম নির্মূলের জন্য আলেম-ওলামাদের উপর যে জুলুম নীপিড়ন চালাচ্ছে তারই ধারাবাহিকতায় আজ আল্লামা সাঈদীকে মৃত্যুদ-ে দ-িত করার রায় ঘোষণা করেছে। শতকরা ৯০ ভাগ মুসলমানের দেশের তৌহিদী জনতা সরকারের এই ষড়যন্ত্র জীবন দিয়ে প্রতিহত করবে। সরকার তার প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার জন্য জনপ্রত্যাখ্যাত রায়ের বিরম্নদ্ধে জনতার স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলনকে স্ত্মব্ধ করে দেয়ার জন্য আজ সারাদেশে ৪৪ জন সাধারণ মানুষকে গুলি করে হত্যা করেছে।
এর আগে মহান রাব্বুল আলামীন, রাসূল (সাঃ), কুরআন ও ইসলামের অবমাননার প্রতিবাদে সাধারণ মুসল্লীরা বিক্ষোভ প্রদর্শন করলে সরকার পুলিশ বাহিনী দিয়ে গুলি করে ২০ জনকে হত্যা করে। আলেম-ওলামা, পীর-মাশায়েখসহ লক্ষাধিক ইসলাম প্রিয় মানুষের বিরম্নদ্ধে মামলা দায়ের করে।
আজ ২৮ ফেব্রম্নয়ারী সরকার নির্দেশিত ছকে ট্রাইব্যুনাল-১ কর্তৃক প্রদত্ত রায় প্রত্যাখ্যান করে দেশের সর্বত্র সাধারণ জনতা প্রতিবাদ জানালে পাখি শিকারের মত তাদের উপর গুলি চালিয়ে ৪৪ জনকে হত্যা করে। সারাদেশে ৩ সহস্রাধিক মানুষ গুলিবিদ্ধ। তার মধ্যে প্রায় ৫০০ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। সরকারের এ জুলুম, নিপীড়ন থেকে শিশু, বৃদ্ধ, নারী কেউ রেহাই পায়নি। সরকার মূলত সাঈদীকে হত্যা করে বাংলাদেশ থেকে ইসলাম নির্মূল করতে চায়। দেশের জনগণ সরকারের চক্রান্ত্ম প্রতিহত করবে ইনশাআল্লাহ্‌। সকল ষড়যন্ত্র চক্রান্ত্রের প্রতিবাদে আলেম-ওলামা, পীর-মাশায়েখ ও সাধারণ জনতার উপর জুলুম, নির্যাতন বন্ধ এবং আলস্নামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মুক্তির দাবীতে আমি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পÿ থেকে নিম্নোক্ত কর্মসূচী ঘোষণা করছিঃ
>    ১ মার্চ শুক্রবার- দেশব্যাপী দোয়া দিবস।
>    ২ মার্চ শনিবার দেশব্যাপী বিÿোভ কর্মসূচী।
>    ৩ ও ৪ মার্চ রবি ও সোমবার দেশব্যাপী ৪৮ ঘণ্টা লাগাতার হরতাল।
ঘোষিত এ কর্মসূচী সফল করে তোলার জন্য আমরা দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।\"