চলতি বিষয়াবলি
উদ্বেগজনক তথ্য
Thursday, 28 February 2013
ভারতের সহায়তায় বাংলাদেশে শাহবাগে আন্দোলন হচ্ছে বলে টাইমস অব ইন্ডিয়া মন্তব্য করেছে। টাইমস অব ইন্ডিয়া ভারতের অত্যন্ত প্রভাবশালী, দায়িত্বশীল দৈনিক। পত্রিকাটির এই মন্তব্যটিও নিঃসন্দেহে দায়িত্বশীল এবং সেজন্যই গভীর বিবেচনার দাবী রাখে। গত মঙ্গলবার টাইমস অব ইন্ডিয়ার অনলাইন সংস্করণে ‘প্রটেস্টারস অ্যাট শাহবাগ ইন বাংলাদেশ ব্যাকড বাই ইন্ডিয়া’, শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার ব্যস্ততম শাহবাগ মোড়ে তরুণ প্রজন্মের আন্দোলনে সম্ভবত প্রতিবেশী ভারতের শক্তিশালী সহায়তা রয়েছে। ওই প্রতিবেদনে দু’জন নীতিনির্ধারকের বক্তব্যও উদ্ধৃত করা হয়েছে। গত শুক্রবার ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা শিব শংকর মেনন বলেন, শাহবাগের এই প্রতিবাদ বাংলাদেশী যুবকদের খোলা মন-মানসিকতার প্রতীকÑ যারা চরমপন্থার বিরুদ্ধে এবং গণতন্ত্রের মূল্যবোধ ধরে রাখতে সংগ্রাম করছে। পুনে রাম সাথ চেয়ার স্থাপনকালে মেনন আরও বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের শাহবাগ মোড়ে চরমপন্থা ও যুদ্ধাপরাধীদের বিরুদ্ধে হাজার হাজার যুবকের একত্র হওয়া তাদের খোলা মন-মানসিকতা এবং রাজনীতিকে সুসংহত করার ক্ষমতার অনুভূতির জানান দেয়। সম্প্রতি বাংলাদেশ সফরকালে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সালমান খুরশিদ প্রতিবাদকারীদের সাথে সংহতি প্রকাশ করেন। ঢাকায় সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে খুরশিদ বলেন, এটা সবসময় আশ্চর্যজনক যে, যুবকরা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করছে। তারা তাদের উদ্বেগ, সংযুক্তি এবং আকাক্সক্ষাকে প্রকাশ করছে এবং আমি এর প্রশংসা করি।
টাইমস অব ইন্ডিয়া ভারতের সবচেয়ে প্রভাবশালী সংবাদপত্র। এই সংবাদপত্রের কোন প্রতিবেদন এবং তাতে প্রকাশিত মন্তব্যকে কোন বিবেচনাতেই হালকা করে দেখা যাবে না। খবরে ‘সম্ভবত’ বলে যে তথ্য পরিবেশিত হয়েছে, তা কোনভাবেই সমীচীন হতে পারে না, বরং চরম অপ্রত্যাশিত এবং প্ররোচনামূলক হিসেবেও গণ্য হতে পারে। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের প্রভাবশালী বাংলা দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকা একই দিনে প্রকাশিত খবরে বলেছে, বাংলাদেশ ভালো নেই। তাই ভারত থেকে পেট্রাপোল সীমান্ত হয়ে দেশে ফিরছেন দলে দলে বাংলাদেশী। কারও মনে একরাশ উদ্বেগ। কেউবা যাচ্ছেন শাহবাগ স্কোয়ারের লড়াইয়ে শামিল হতে। আনন্দবাজার আরও বলেছে, চিন্তারই কথা। শাহবাগ স্কোয়ার উত্তাল। হরতাল, অবরোধ, গুলী এখন ওপার বাংলার নিত্যসঙ্গী। এই কথাগুলোর সঙ্গে ভারতের অপর প্রভাবশালী দৈনিক হিন্দুস্থান টাইমস-এর আগেকার খবর, ‘বাংলাদেশে গৃহযুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ছে’ মিলিয়ে পাঠ করলে এটাই স্পষ্ট হবে যে, এই সব খবর একই সমতলের। বলতেই হয়, কী ভয়াবহ বিভ্রান্তিকর সব খবর প্রকাশিত হচ্ছে ভারতের পত্র-পত্রিকায়। এসব খবর যতটা বিভ্রান্তিকর, ততটাই হতে পারে উস্কানিমূলক। সর্বোপরি টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনের বক্তব্যটি লক্ষ্য করলে উস্কানির বিষয়টিই আলোচনায় চলে আসে। দেশের সচেতন, বিবেকবান মানুষকেও এখন বিশ্বাস করতে হচ্ছে যে, চলমান আন্দোলনসহ সার্বিক ক্ষেত্রে ইন্ধন, উস্কানি, সহায়তা সক্রিয় থাকা বিচিত্র নয়। উল্লেখিত খবরাদিও রীতিমত অশনি সংকেত হিসেবে গণ্য না হয়ে পারে না। এছাড়া ভারতের সহায়তায় শাহবাগ আন্দোলন হচ্ছেÑ এই মর্মে টাইমস অব ইন্ডিয়ার আলোচ্য এই খবর শাহবাগ আন্দোলনের মূলে কুঠারাঘাত স্বরূপ। অবশ্য ইতোমধ্যে দেশের মানুষের মধ্যেও শাহবাগ আন্দোলন নিয়ে বিভ্রান্তি দেখা দিতে শুরু করেছে। আন্দোলনের মূল লক্ষ্য আসলে কি, আন্দোলন কতদিন চলবেÑ এসব ব্যাপারেও জনমনে প্রশ্ন দেখা দিতে শুরু করেছে। এই আন্দোলনের প্রথম প্রধান এজেন্ডার ব্যাপারে সরকার ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন সংশোধন করেছে এবং সংসদে তা পাসও হয়ে গেছে। তারপরও আন্দোলনে তোড়জোড় যেন বেড়েই চলেছে। সাথে সাথে উদ্বেগও বাড়ছে। প্রসঙ্গক্রমে উল্লেখ্য, গত শনিবার আওয়ামী ওলামা লীগ ও সমমনা কয়েকটি ইসলামী সংগঠন প্রেসক্লাবের সামনে যে সংবাদ সম্মেলন ও মানব বন্ধন করে, সেখানে ওলামা লীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক স্বঘোষিত নাস্তিক ব্লগারদের কথা বলতে গিয়ে যেসব নাম উল্লেখ করেছেন, তার প্রায় অর্ধেকই প্রতিবেশী সম্প্রদায়ের নাম। যাহোক এসব বক্তব্য, খবর নিয়ে আশংকার পাশাপাশি নানা প্রশ্নও এখন আলোচিত হতে শুরু করেছে। এসব প্রশ্নের জবাব দুয়েকটি খবরেই পাওয়া যাবে, এমন মনে করা না গেলেও এসব খবর অশনি সংকেত হিসেবে আসছে এবং জনমনে ক্রমাগত উদ্বেগ বাড়িয়ে চলেছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশের সর্বত্র টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে। উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা যেভাবে বেড়ে চলেছে, তাতে অর্থনীতি ক্ষতিকর অবস্থার দিকে ধাবিত হবে। ব্যবসা-বাণিজ্যসহ সার্বিক অর্থনীতি নিয়ে ব্যবসায়ী ও অর্থনীতিবিদরা উদ্বিগ্ন। শিল্প-কারখানায় উৎপাদন ও আমদানি-রফতানি বিঘিœত হতে যাচ্ছে। শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং সর্বক্ষেত্রে অস্থিরতা জেঁকে বসছে। সাধারণ মানুষ চরম উদ্বেগের মধ্যে পড়ছেন। বিরোধীদলের পক্ষ থেকেও বলা হচ্ছে যে, জাতীয় নিরাপত্তা আজ হুমকির মুখে। সরকার পরিস্থিতি বিবেচনায় সতর্ক অবস্থানে রয়েছে, এ কথা বলা হলেও সাধারণ মানুষের অস্বস্তি কাটছে না। মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাবোধ সৃষ্টি করতে হবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পরিস্থিতি সংকটময় হচ্ছে কিছু দায়িত্বশীল ব্যক্তির দায়িত্বহীন আচরণের জন্য। পরিস্থিতি উত্তরণে রাজনীতিবিদদের সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে। তারুণ্যের আবেগ বিবেচনার বিষয় বটে, তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বাস্তবতার নিরিখে সকল মহলের কর্ম ও আচরণে জাতীয় স্বার্থ সংরক্ষণে ধৈর্য, সহনশীলতা, বিচক্ষণতা ও দূরদৃষ্টিই এখন কাম্য
- See more at: http://184.172.176.28/~bbustbd/cp/details_news.php?id=94186&&+page_id=+10#sthash.OcVZhmk3.dpuf