Wednesday, 19th June, 2013
Choose Language:

সর্বশেষ
চলতি বিষয়াবলি
পরিকল্পিতভাবে নষ্ট করা হচ্ছে বিআরটিসির এসি বাস
Thursday, 28 February 2013
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (এসি) বাসগুলো সুপরিকল্পিতভাবে নষ্ট করে ফেলা হচ্ছে। কোরিয়ান ঋণে কেনা  ‘দাইয়ু’ কোম্পানির এসি বাসগুলো এক বছরও হয়নি ঢাকায় নামানো হয়েছে। কিন্তু এই সময়ের মধ্যে সড়কে চলা অর্ধেক বাস চলাচলের অনুপোযোগী করে ফেলা হয়েছে। কোনো যান্ত্রিক কারণ নয়, স্রেফ ইচ্ছে করেই এই বাসগুলো নষ্ট করা হচ্ছে। ড্রাইভার ও তথাকথিত হেলাপারদের সহায়তায় (কিন্তু এই বাসে হেলপার থাকার কথা নয়) খুলে নেয়া হচ্ছে বাসে রক্ষিত পাখা (ফ্যান), নষ্ট করে ফেলা হচ্ছে এসির সুইচ। আর ভয়াবহ চিত্র হচ্ছেÑ গাড়ির পেছনে থাকা সব ‘ইন্ডিকেটর লাইট’ও খুলে নেয়া হচ্ছে। সন্ধ্যা নামলেই বাসগুলো হয়ে পড়ে লোকাল। তখন  এসি বাসে জানালা খুলে অনেক যাত্রীদের সিগারেটও ফুঁকতে দেখা যায়।  এখানে বাদ যায় না বাসের ড্রাইভারও। যত্রতত্র বাস থামিয়ে বিনা টিকিটে যাত্রী তোলাও অনেক দিন থেকে চলে আসছে।
বাসগুলো বর্তমানে ঢাকার দুই রুটে চলাচল করে। একটি হচ্ছে মতিঝিল-আবদুল্লাহপুর রুট অন্যটি গুলিস্তান-নারায়ণগঞ্জ রুট। প্রথম রুটের বাসগুলো সরাসরি পরিচালনা করছে বিআরটিসি। অপরটি চলছে সরকার সমর্থক একটি গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে।
বিআরটিসি নিয়ন্ত্রণে চলাচলকারী বাসগুলো মতিঝিল-উত্তরা-আবদুল্লাহপুর রুটে চলাচলের নিয়ম থাকলেও সন্ধ্যার পর থেকে এই বাসগুলো বিনা টিকিকের যাত্রী নিয়ে গাজীপুর চলে যায়। যাত্রীপিছু ভাড়া নেয়া হয় ২০ থেকে ৩০ টাকা। চলতি মাসের কয়েক দিন প্রত্যক্ষভাবে অনুসন্ধানে এ চিত্রই চোখে পড়েছে।
চলতি ফেব্রুয়ারি মাসের ১১ তারিখ। স্থান শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সামনের রাস্তা। রাত সাড়ে ৯টা। এখানে মতিঝিল-আবদুল্লাহপুর রুটের  একটি বিআরটিসির এসি বাসের (ঢাকা মেট্রো-ব-১১-৫৩৮২) তথাকথিত হেলপারকে  দেখা গেল ‘গাজীপুর, গাজীপুর’ করে চিৎকার করে যাত্রী তুলছে। এই বাসের বয়স এক বছর হয়নি, কিন্তু পেছনে সব ইন্ডিকেটর লাইট নিখুঁতভাবে খুলে নেয়া হয়েছে। অর্থাৎ কোনোরূপ নিদের্শক বাতি ছাড়াই চলছে এ গাড়ি। আরো ভয়াবহ হচ্ছে, বাসটির ভেতরে অনেক যাত্রীকে ধূমপান করতে দেখা গেছে। ফেব্রুয়ারি ১০ ও ১১ তারিখে রাত ৯টায় একই স্থানে দু’টি এসি বাসকে (ঢাকা মেট্রো-ব-১১-৫৩৭০ ও মেট্রো-ব-১১-৪৭১০) লোকাল করে গাজীপুরগামী যাত্রীদের তুলতে দেখা গেছে। একটি বাসে  এত বিপুল যাত্রী তোলা হয় যে, এসি চালু থাকা অবস্থায় বেশ কয়েকজন যাত্রীকে দরজায় ঝুলতে দেখা যায়। আলাপ করে জানা যায়, আবদুল্লাহপুরগামী সব বিআরটিসি বাসই সন্ধ্যার পর যাত্রী নিয়ে গাজীপুর চলে যায়। সেখান থেকে আবার যাত্রী তুলে খিলক্ষেত ডিপোতে আনা হয়। আর এরই মধ্যে লোপাট করা হয় বিলাসবহুল এ বাসের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ।
কেন এ অবস্থা?
বিআরটিসির নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক  এক বাসচালক এ ব্যাপারে যা বলেছেন তা অনেকটা অবাক করার মতো। তিনি জানান, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর গত তিন বছরে নতুন বাস চালানোর জন্য বিআরটিসিতে ৯ শতাধিক চালক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। নিয়োগের শর্ত হিসেবে প্রত্যেকের কাছ থেকে ৫০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা ঘুষ নেয়া হয়েছে। ঘুষের এই অর্থ বিআরটিসির শীর্ষপর্যায় ও মধ্যপর্যায়ের লোকদের কাছে চলে যায়। বিআরটিসি পুরো প্রশাসন এখন দুর্নীতিতে আকণ্ঠ নিমজ্জিত। চীন থেকে  নিম্নমানের বাস আনায় যে কমিশন পাওয়া গেছে তা দিয়ে সংস্থার একজন শীর্ষ কর্মকর্তা তো ঢাকার একটি অভিজাত এলাকায় বিলাসবহুল এপার্টমেন্ট কিনেছেন। তার বাসায় তিনটি গাড়ির দু’টির ড্রাইভার বিআরটিসি থেকে সরবরাহকৃত। সেই চালক অনেকটা ক্ষোভের সাথে বলেন, আমরা তো যানজটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থেকে কষ্ট করে বিনা টিকিটে  যাত্রী তুলে পয়সা কামাই। কিন্তু আমাদের সুপারভাইজার বা স্যারেরা তো বিনা পরিশ্রমেই টাকা কামান। আমরা প্রতিদিন যে ৫০০ থেকে হাজার টাকা  যাত্রীদের কাছ থেকে নিই তা থেকে এক শ’ টাকা  সুপারভাইজারকে দিতে হয়। আরো টাকা দিতে হয় কাউন্টারম্যান ও অন্যদের।
সংশ্লিষ্ট যাত্রীরা বলেছেন, যেভাবে অনিয়ম চলছে, তা দ্রুত বন্ধ করা না হলে এ বছরের মধ্যে বিআরটিসির সব এসি বাস চলাচলের সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়বে। বিষয়টি যোগাযোগমন্ত্রীর নিজে উদ্যোগী হয়ে দেখা উচিত। তা না হলে বিআরটিসি ডুবতে আর বেশি দিন লাগবে না।
http://www.dailynayadiganta.com/new/?p=127996